আজকের আমার দিন টা বেশ অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে কাটল। সেই অভিজ্ঞতাই আমি এখন লিখতে লিখতে হাটছি। ফোনের স্ক্রিনগার্ড কিনব বলে বেরোলাম যখন তখন মেঘলা হয়ে গেছে, বাতাস তার গতি কিছুটা বাড়িয়েছে। চাঁদনীতে যে দোকানে স্ক্রিন গার্ড টা কিনলাম সেখানে খুচরো অভাবে ১২০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা আর ১৭ টাকার পুরো খুচরো দিলাম। দোকানদার আমার খুচরোর অভাব বুঝতে পেরে পুরো খুচরো ফেরত দিল এই ভেবে যে আমার বড় নোট হয়তো বাসে ভাঙানি পাবনা। ওনার মাথায় সাদা টুপি টা বুঝিয়ে দিল ওটা ধর্ম কে মনে করায়না, মনে করায় শান্তির কথা। হাঁটতে হাটতে পৌঁছে গেলাম ইলিয়ট পার্ক। ওখানে কিছুক্ষন বসে বেরোবার সময় গেটের সামনে এক হিজরে আমায় বলল, ভাই তুমি একা কেন? গার্লফ্রেন্ড জোটেনি? এস আশীর্বাদ করি, টাকা লাগবেনা। আশীর্বাদ অভিশাপ এ বিশ্বাস করিনা, তবে কোনো একটা কারনে হয়তো তাই গেলাম, আর তারপরে ওই পুরো খুচরোটা দিয়ে দিলাম। কোনো জোর করে নয়, হাসিমুখ টা দুজনেরই ছিল। নন্দনে পৌঁছে উমার টিকিট কেটে উমা যখন দেখতে শুরু করলাম, পুরো সিনেমা টা জুড়ে মানবিকতার যে ধরন ছিল তা হয়তো পরপর মিলে যাচ্ছিল। সিনেমার শেষে পরে ঠিক করলাম ঘটনাটা লিখব। তাই সেন্ট ক্যাথিড্রাল এর পাশের অন্ধকার ফুটপাথ দিয়ে হাটতে হাটতে যখন কানে বাজছে জাগো উমা হেডফোনএ, এক ঘুমন্ত বৃদ্ধা কে দেখলাম, দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এতক্ষন এসি রুমে বসে যে বাস্তবায়ন দেখে এলাম কোথাও যেন সুক্ষ আঘাত লাগল। ফিরে গিয়ে বৃদ্ধা কে ভালো করে দেখলাম, চশমা টা ফুটপাথএ পড়ে রয়েছে, আর চোখ থেকে জল টা কুঁচকে যাওয়া গাল বেয়ে ব্লাউসে পড়ছে, চশমা টা তুলছি যখন আমার দিকে তাকিয়ে কৌতুক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে, যে দৃষ্টিতে রয়েছে একটা স্পষ্ট ক্ষুধার্তের আর্তনাদ। ব্যাগে আধ খাওয়া বিস্কুটের প্যাকেট ছিল, ওটাই দিয়ে রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। আর এখন লিখতে লিখতে অনেকটা চলেই এলাম, শুধু অনুভব করলাম এই কল্লোলহীন কলকাতার বুকে কত চাপা কল্লোল আছে, কত চূড়ান্ত যন্ত্রনা আছে সিনেমার পর্দা থেকে বাস্তবের তিলোত্তমাতে, কিন্তু সবের শেষে সবচেয়ে বেশি আছে আশা, যে আশা পরবর্তী মুহূর্তের বাঁচার ক্ষিদে জোগায়, ইন্ধন দেয় পরের ভোর টা দেখার জন্য। “জাগো উমা” কোনো মাটির মূর্তি কে বাঁচতে সাহস দেয়না, জাগতে বলে আমাদের মধ্যেকার বিবেক মানবিকতা আর আশা কে। কারন ছোট থেকে বড় হওয়ার সময় পরিবেশ আপনাকে ততটাই মানবিক হতে শেখায় যতটা দেখে আপনি অভ্যস্ত, কিন্তু আশা রাখুন , বিশ্বাস রাখুন মানবিকতা সবার রয়েছে, শুধু দুঃখের ঝড়ে বিবেকে অনেকসময় মোটা ধুলোর প্রলেপ পড়ে। শুধু প্রকৃত ভালোবাসা পারে সেই ধুলোর আস্তরণ কে ঝেড়ে ফেলে বিবেক কে জাগ্রত করে। পুঁথিগত শিক্ষা শুধু নয়, আসল শিক্ষা মানুষের ব্যবহারএ, যেখানে কোনো রাজনীতি, ধর্ম, অর্থ, জাত, বর্ণ, এমনকি পরীক্ষার নাম্বারের ও কোনো যুদ্ধ থাকবেনা। যুদ্ধ টা নিজের সাথে করুন যদি কোনো ভুল করেন। তাহলে বাড়ি ফেরার সময় আমার মত হালকা মেজাজে ফুরফুরে ভাবে শান্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন। কারন আপনি অশান্তিতে থাকলে সেই ঝড় টা আপনি আপনার কাছের মানুষ এর ওপরে দেখাবেন, ফলে ভুগবে অনেক গুলো হৃদয়। শুভ রাত্রি।
৪/৪/২০১৭ ট্রেন টা ছেড়ে দিল বেশ জোরে শব্দ করে। হাওড়া থেকে সিউড়ি যেতে যেতে কি করব ভাবছিলাম, তাই বুদ্ধি করে খাতা আর পেন টা ব্যাগে আনতে ভুলিনি। ট্রেনের জানলায় বসলেই আমার কেমন নিজেকে নিজেকে কবি কবি বলে মনে হয়। কিন্তু লিখতে গিয়ে কবিতা তার কবিত্ব হারিয়ে গদ্য হয়ে যায় তাই এবার প্রথম থেকেই সহজ ভাষায় গদ্য লিখব। টিকিট কাটার সময় টিকিট কাউন্টার এর লোকটাকে বলেছিলাম জানলার ধারে যেন সিট হয়। তবে এবারে ভাগ্য ভালো, এই জানলা দিয়ে অতীত নয়, ভবিষ্যৎ দেখা যায়, মানে হলো গিয়ে ট্রেনটার গতির অভিমুখের জানলা। এবাবা, এতসব লিখতে গিয়ে ভুলেই গেছিলাম আমি কে, কি করি, কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি ইত্যাদি। নমস্কার, আমি অভিজিৎ মুখার্জী। পেশা বলতে ছাত্র আর ওই আর্ট কলেজে একটু আকিবুকি করি। বাড়ি সিউড়ি, কলকাতা থাকি কলেজের জন্য। পরীক্ষার শেষে বাড়ি ফিরছি। বাড়ি ফেরার আনন্দ আমার একটু বেশি, কারন ওই মেসে থেকে দোকানের খাবার খেয়ে পেটটা মাঝে মাঝেই বিগড়ে যায়। আমার বান্ধবী অদৃতা রায়, সে আবার ওই ট্রিপিকাল বাঙালি, কলকাতা ছাড়া কিছুই ওর ভালোলাগেনা। একদিকে উত্তর কলকাতার বনেদিয়ানা আর আভিজাত্য নিয়ে জ্ঞান মারবে আবার আমার সাথে বসে শ্যাম্পেন ও খাবে। আমার বা...
Comments
Post a Comment